জাতীয় নাগরিক পার্টি আত্মপ্রকাশ, আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল "জাতীয় নাগরিক পার্টি" আত্মপ্রকাশ করেছে। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মানিকমিয়া অ্যাভিনিউতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয়। এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব হিসেবে আখতার হোসেনকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
এ সময় শহীদ মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন রাব্বীর বোন মীম আক্তার নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা এবং আহ্বায়ক কমিটির নাম ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “আমরা যে দল গঠন করছি, তা দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে এবং তরুণদের জন্য নতুন দিশা প্রদান করবে।”
নতুন দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
নতুন দলের লক্ষ্য জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের সুরক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। দলটি ঘোষণা করেছে যে তারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের অধিকারের পক্ষে থাকবে এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক মর্যাদা রক্ষায়। দলটি দাবি করেছে যে, মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসন বজায় রাখতে তাদের শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।
নতুন দলের আওতায় ১৫১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সামান্তা শারমিন এবং আরিফুল ইসলাম আদীব। তাদের সঙ্গে ১৬ জন যুগ্ম আহ্বায়কও নির্বাচিত হয়েছেন। যুগ্ম আহ্বায়কদের মধ্যে অন্যতম হলেন নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, মাহবুব আলম, সারোয়ার তুষার, মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, তাজনুভা জাবীন, সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, আতিক মুজাহিদ, আশরাফ উদ্দীন মাহাদী, অর্পিতা শ্যামা দেব, তানজিল মাহমুদ, অনিক রায়, খালেদ সাইফুল্লাহ, জাবেদ রাসিন, এহতেশাম হক এবং হাসান আলী।
নেতৃত্বের নতুন পদবিন্যাস
এছাড়া, দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিবের পদে তাসনিম জারা এবং নাহিদা সারওয়ার নিভা নির্বাচিত হয়েছেন। যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে ৩২ জন নির্বাচিত হয়েছেন, যারা দলের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সদস্যরা হলেন- আবদুল্লাহ আল আমিন, আরিফ সোহেল, রশিদুল ইসলাম রিফাত, মাহিন সরকার, মো. নিজাম উদ্দিন, আকরাম হুসেইন, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, সালেহ উদ্দিন সিফাত, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, ফরিদ উদ্দিন, মো. ফারহাদ আলম ভূঁইয়া, মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া, লুৎফর রহমান, মো. মঈনুল ইসলাম (তুহিন), মুশফিক উস সালেহীন, জাহিদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম মুসা, হুমায়রা নূর, মোশফিকুর রহমান জোহান, মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান, সাগুফতা বুশরা মিশমা, আহনাফ সাইদ খান, আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন, মীর আরশাদুল হক, ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, তারেক রেজা, মশিউর রহমান, জয়নাল আবেদীন শিশির, মুনতাসির রহমান, গাজী সালাউদ্দীন তানভীর, তামিম আহমেদ এবং তাহসীন রিয়াজ।
আঞ্চলিক সংগঠন ও দায়বদ্ধতা
দলের দক্ষিণাঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলীয় সংগঠনগুলোর দায়িত্বও পৃথকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে হাসনাত আবদুল্লাহ দায়িত্ব পেয়েছেন। তার সাথে যুগ্ম মুখ্য সংগঠক হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ আতাউল্লা, মাহমুদা মিতু, মোল্লা রহমাতুল্লাহ, এস এম শাহরিয়ার এবং জোবারের আরিফ। দক্ষিণাঞ্চলের ২৬ জন সংগঠকও দায়িত্ব পেয়েছেন।
এছাড়া, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে সারজিস আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাইফুল্লাহ হায়দার, আলী নাছের খান, সাকিব মাহদী, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, সাদিয়া ফারজানা দিনা, অলিক মৃ এবং হানিফ খান সজীব। উত্তরাঞ্চলের ১৮ জন সংগঠকও নতুন দলের কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন।
বিশেষ সদস্যপদ
এই নতুন দলে সদস্য পদে বিশেষভাবে স্থান পেয়েছেন জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের স্বজনসহ ৪৩ জন সদস্য। এই সদস্যদের মধ্যে রয়েছে শহীদ জাবিরের বাবা কবির হোসেন, শহীদ আহনাফের মা জারতাজ পারভিন এবং অন্যান্য আহত সদস্যরা। এই পদবী তাদের এই সংগ্রামের প্রতি সম্মান প্রদর্শন হিসেবে রাখা হয়েছে।
পার্টির ভবিষ্যত পরিকল্পনা
জাতীয় নাগরিক পার্টি দেশব্যাপী একটি বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চায় এবং আগামী দিনে দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখতে চায়। দলের নেতৃবৃন্দ আশাবাদী যে, এই দলের গঠন দেশের মানুষের জন্য এক নতুন দিশা নিয়ে আসবে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব ও দলীয় সদস্যরা
নতুন রাজনৈতিক দলটি রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি শক্তিশালী ও নবীন নেতৃত্বের উপস্থিতি তৈরি করেছে এবং যুবসমাজের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার সূচনা করেছে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |